গ্রীক দার্শনিকেরা বাংলাদেশে জন্মালে

৬৫০ পঠিত ... ১৭:৩৮, জানুয়ারি ২৩, ২০২৫

14

গ্রীক দার্শনিকেরা ফেসবুকে থাকলে তাদের স্ট্যাটাসের কমেন্টে যা লেখা হতো;

এরিস্টোফিনিস লিখলেন, প্রত্যেকটি পাথরের নিচে একজন রাজনীতিবিদ উঁকি দেয়।

সহমত ভাই: এরিস্টোফিনিস হালায় সুশীল সাজতেছে। আঙুর ফল টক। ভোটে দাঁড়াইলে জামানত হারাইব।

শিবব্রত দাদা: এরিস্টোফিনিস বিরাজনীতিকরণের কথা বলতেছে; উদ্দেশ্য মহত নয়। এ ধরনের লোকগুলোর ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে।

শরিয়ত ভাই: জ্ঞানী সাজতে আসছে। আল্লাহ চাইলে পাথরেও ফুল ফুটাইতে পারেন। নাসতেক কুনহানকার।

হোমার লিখলেন, একজন প্রকৃত বীর তার দেশের জন্য ছাড়া আর কোনো ক্ষেত্রে তরবারি তুলে নেন না।

সহমত ভাই: দেশের কোন কাজটাতে হোমার আসছে। মুক্তিযুদ্ধে উনার ভূমিকা কী! জানি জানি সবই জানি; ছাগু কুনহানকার।

শিবব্রত দাদা: তরবারি শব্দটা শুনেই বুঝেছি; হোমার লোকটা মৌলবাদী। তিনি তালি-বানদের উৎসাহিত করতে এসেছেন। সে কি পাকিস্তানপন্থী!

শরিয়ত ভাই: যেই লোকের মুখে আল্লা খোদার নাম নাই; সে জানি জিহাদের কথা আর না কইতে আসে। জানিরে জানি হোমার শাহবাগী।

হাইপেশিয়া লিখলেন, নিজের চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করো; ভুল চিন্তা করার চেয়ে চিন্তা না করাই ভালো।

সহমত ভাই: একটু শিক্ষিত বইলা চিন্তা করার অধিকার আপনার একার না। জ্ঞানপাপী ডাবল স্ট্যান্ডার্ড কুনহানকার।

শিবব্রত দাদা: চিন্তার দায়িত্বটা বুদ্ধিজীবীদের কুক্ষিগত করার ছল এটা। আমরা এসব বুঝি। জিন্নার পোলা কুনহানকার।

শরিয়ত ভাই: নিজেরে আলেম ভাববেন না; এতই যদি মুরোদ থাকে ইব্রাহিম হুজুরের সঙ্গে বাহাসে আসেন। এইসব আলগা ভাবের কারণে প্রগতিশীলগো দেখতারি না।

হেরাক্লাইটাস লিখলেন, কেউ একই নদীর স্রোতে দুবার অবগাহন করতে পারে না; কারণ সে দ্বিতীয়বার যখন নদীতে নামে সেও একই মানুষ নয়; নদীর স্রোতও সেই পুরোনো স্রোত নয়।

সহমত ভাই: সুশীলেরা গিরগিরির মতো রঙ বদলায়; তাই সে একই নদীতে দুবার সাঁতার কাটতে পারে না। আমরা তো বদলাই না; জয় বাংলার নদীতে আমৃত্যু সাঁতার কাটব।

শিবব্রত দাদা: লোকটি বহুরুপী। তার মতলব আছে। সে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে চব্বিশের অভ্যুত্থানের কথা বলছে।

শরিয়ত ভাই: নদীর স্রোত বদলানোর কথা না। কিন্তু আপনার বাপের দেশ ভারতের কারণে নদীগুলির স্রোত বইলা আর কিছু নাই। আপনি কি কেবলা বদলাইতেছেন নাকি; যে দ্বিতীয়বার একই মানুষ থাকতে পারতেছেন না।

ডেমোক্রিটাস লিখলেন, সুখ সম্পদ কিংবা স্বর্ণে নয়; সুখ থাকে আত্মার মাঝে।

সহমত ভাই: মুখে সোনার চামচ মুখে নিয়া জন্মাইলে এইসব ভাবের কথা আসে। চাঁন্দাবাজি না করলে যাগো বাড়িতে বাজার হয় না; তাগো জিগায় দেখেন। আইছে আমার আত্মা মারাইতে।

শিবব্রত দাদা: সম্পদ করতে না পেরে নিজেকে প্রবোধ দিয়ে লাভ নেই। পারবেন আম্বানি কিংবা আদানির মতো সুখি হতে; কমপক্ষে বাপ্পি লাহিড়ীর মতো স্বর্ণের অলংকার কিনতে। অযথা অবাস্তব কথা বলবেন না!

শরিয়ত ভাই: সুখ দেওয়ার মালিক আল্লাহ; সেইটা সম্পদের মাধ্যমেও আইতে পারে; স্বর্ণের মাধ্যমেও আসতে পারে। কুরান সুন্নার আলোকে জীবন কাটাইতে চেষ্টা করেন; অযথা শিরক করবেন না!

সফোক্লিস লিখলেন, প্রজ্ঞা সম্পদের চেয়ে ভারী।

সহমত ভাই: হাজার কোটি বানাইতে পারেন নাই; প্রাডো পোরশ কিনতে পারেন নাই। অহন আঙুর ফল টক তো হইবোই। লুজার কুনহানকার।

শিবব্রত দাদা: চাণক্য বলেছেন, সম্পদ প্রজ্ঞা আনে। এই লোকটাকে যদি আম্বানির বাড়িতে ঘুরিয়ে আনতে পারতাম; তাহলে সে বুঝতো কোনটা ভারি। আপনার যদি এতই প্রজ্ঞা থাকত তাহলে রিকশা করে ঘুরতেন না; একটা গাড়ি থাকত।

শরিয়ত ভাই: ইসলাম ধর্মে সম্পদ তৈরিতে উৎসাহিত করা হইছে। আপনার মতোন রিকশায় চইড়া সেমিনারে যাওনের চেয়ে শফি হুজুরের হেলিকপ্টারে চইড়া দীনের দাওয়াত দিতে আসা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

এথেনিউয়াস লিখলেন, পুরোনো কাঠ পুড়ে ভালো, পুরনো খুশিজল পানে স্বাদু, পুরনো বন্ধু বিশ্বাসযোগ্য, পুরোনো লেখক পড়তে ভালো।

সহমত ভাই: আজ থেকে আপনার ওপর শ্রদ্ধা হারাইলাম; আপনি নতুন প্রজন্মের ওপর আস্থা রাখতে পারতেছেন না।

শিবব্রত দাদা: ফেসবুকে নতুন বন্ধু হইতেছে না মনে হয়। কী করবেন! বুইড়া হইছেন এখন ঘাটের মড়ার লগে বন্ধুত্ব করব কেডা; আপনার চিতায় পুরান কাঠ দিতে কমুনে।

শরিয়ত ভাই: মদ খাওয়া ইসলামে হারাম; আমি আপনার পোস্ট রিপুট করতেছি। ফেসবুকে বেশরিয়তি কায়কারবার করবেন না।

হেসিওড লিখলেন, প্রগলভ নারীকে তোমার দখল নিতে দিও না, তোমাকে পরিচালিত কিংবা ঠকাতে দিও না; কারণ সে তোমার সঞ্চয়ের পেছনে রয়েছে।

ললিতাদি: ফেসবুকে মিসোজিনি করবেন না। টক্সিক লোক কোথাকার।

আনারকলি আপা: আমার এক পরিচিত আপা বলছে, এই লোক প্রতিদিন তার বউ পিটাইত।

রাবেয়া আপা: মেয়েরা তোমরা পর্দা পুসিদা সহকারে চলো; তাহলে এইরকম খচ্চর লোক বাজে কথা বলতে পারবে না।

বুশরা আপা: লোকটাকে রিপোর্ট করুন। সে মেল শভিনিস্টিক লোক। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে পুরো নারী জাতির ওপর দায় চাপাচ্ছে।

 

৬৫০ পঠিত ... ১৭:৩৮, জানুয়ারি ২৩, ২০২৫

Top